মা ও আমার মধ্যাকার দূরত্ব।
- এম এ ওয়াহিদ

বাড়ি থেকে ঢাকা— আর ঢাকা থেকে বাড়ি যাওয়ার মুহুর্ত গুলো যেনো চৈত্র ও বসন্তের মতো সম্পূর্ণ আলাদা স্বভাবের।
আমি যখন ঢাকা ছেড়ে মায়ের দিকে অগ্রসর হতে থাকি— হাইওয়ে রোড যেনো হয়ে উঠে কেয়ামতের ময়দান। ঢাকা থেকে বাড়ি যেনো পঞ্চাশ হাজার বছরের দূরত্ব! তাহাজ্জুদ পেরিয়ে ফজর হয়— কদম তলী হয়ে উঠে যেনো পবিত্র ভ্যাটিকান সিটি! সমস্ত মানুষ গুলোকে বড়ো আপন মনে হয়। কদমতলীকে মনে হয় কোনো ঈদের সকাল। ইচ্ছে করে সবাই কে বুকে জড়িয়ে বলি বাসায় এসো বন্ধু! ঠিক তখনই আম্মার ফোনের শব্দ কানে আসে। আমি কল ধরে বলি এইতো আর মিনিট পাঁচেক ; আম্মা সারা রাত জেগে থাকেন—ঘুম আর আম্মার মধ্যে দূরত্ব তখন ঢাকা থেকে বাড়ি। পরিচিত অনেকের সাথে দেখা হয়— চা খেতে ডাকে বাসায় নিমন্ত্রণ করে; আম্মার মতো কেউ বলেনা এতো দূরের পথে কিছু খেয়েছি কি-না!
বাড়ির আঙিনায় যখন পা রাখি— তখন দেখি— আম্মা ছোট বাচ্চার মতো দৌড়ে আসছেন— তখন আম্মাকে মনে হয় ছোট বাচ্চা — অনেক বছর পর যুদ্ধ ফেরত সৈনিক বাড়ি আসছে— দূর থেকে আট বছরের মেয়ে বাবাকে দেখে দৌড়ে আসছে। আম্মা নবজাতকের মতো কাঁদতে কাঁদতে আমাকে ঘরে নিয়ে যান।

মাত্র ০৮ দিনের ছুটিতে যাই;
এই ০৮ দিনই জীবন।
সম্ভবতঃ ০৮ দিন বাঁচি।
ছুটির দিন হয়ে উঠে সেহেরি থেকে ফজরের দূরত্বের সমান।
ছুটি শেষ হতে হতে মাত্র ০২ দিনে আসে।
তখন মনে হয় আমি হসপিটালের কোনো মুমূর্ষু ব্যক্তি!
যার হায়াত মাত্র আর ০২ দিন।
তারপর আম্মা ও আমার মধ্যে আবার দূরত্ব হয় ঢাকা থেকে বাড়ির।

আমি ছটফট করি হসপিটালে শুয়ে থাকা রুগীর মতো— যার আয়ূ আর মাত্র ২ দিন। আমি এই ০৮ দিন বাঁচি। ছুটি শেষ হয়,মৃতঃ ঢাকা শহর আমাকে ডাকাডাকি শুরু করে; ব্যাগ গুছিয়ে যখন বের হই ঢাকার উদ্দেশ্যে, তখন মনে হতে থাকে আমি সম্ভবতঃ পৃথিবীর প্রথম সন্তান— যাকে গন্দম ফল খাওয়ার অপরাধে বেহেস্ত থেকে বের করে দেয়া হচ্ছে। এক পা দু'পা করে সামনে আগাতে থাকি; আমার পায়ের মধ্যে মনে হয় হিমালয় চেপে বসেছে। আম্মা আবারো ছোট বাচ্ছার মতো কাঁদতে কাঁদতে রাস্তা অবধি আসেন। আমি হেঁটে হেঁটে কাঁচাপাকা পথ পেরিয়ে মিলিয়ে যেতে থাকি ঢাকার অন্ধকারে। পেছনে শুনতে পাই মায়ের হাহাকার, আমি পিছনে তাকাই না মায়ের ডাক উপেক্ষা করার দোয়া খুঁজতে খুঁজতে বলি— 'আল্লাহ আমার মায়ের আয়ূ কেয়ামত দিবসের মতো দীর্ঘ করে দাও'

এম এ ওয়াহিদ


১৯-০৪-২০২৬
রকমারি থেকে বই কিনুন
মন্তব্য যোগ করুন

কবিতাটির উপর আপনার মন্তব্য জানাতে লগইন করুন।

মন্তব্যসমূহ

এখানে এপর্যন্ত 0টি মন্তব্য এসেছে।